ENবাং

১. ভূমিকা: কেন এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি?

খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন, এই দুই সংকট এখন বৈশ্বিক চরম বাস্তবতা। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (২০২২) মতে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৯ বিলিয়নে পৌঁছাবে এবং খাদ্য চাহিদা ৮৫% পর্যন্ত বাড়তে পারে । একই সময়ে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে প্রধান খাদ্যশস্য যেমন- ধান, গম, ভুট্টা ও সয়াবিন এর উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।

বাংলাদেশ, একটি নিম্নভূমি ব-দ্বীপ হিসেবে পরিচিত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। উপকূলীয় লবণাক্ততা, আকস্মিক বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় এবং অনিয়মিত বর্ষণ এসবকিছুই কৃষিজনিত উৎপাদন ব্যবস্থাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

অতএব, খাদ্য নিরাপত্তা এখন কেবল উৎপাদনের বিষয় নয়-এটি স্থিতিশীলতা ও অভিযোজনের প্রশ্ন।

২. খাদ্য নিরাপত্তা: একটি সমন্বিত বৈজ্ঞানিক কাঠামো

খাদ্য নিরাপত্তা কেবল খাদ্য উৎপাদনের বিষয় নয়। এটি চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আছে যথা-

  1. প্রাপ্যতা (Availability)-পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন
  2. অভিগম্যতা (Access)-ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারে প্রবেশাধিকার
  3. ব্যবহারযোগ্যতা (Utilization)-পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্য
  4. স্থিতিশীলতা (Stability)-দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিকতা

জলবায়ু পরিবর্তন এই চারটি স্তম্ভকেই আঘাত করছে যার মাধ্যমে ফসলের ফলন কমছে, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে, পুষ্টিকর খাদ্যের বৈচিত্র্য কমছে, এবং খাদ্যের উৎপাদন অনিশ্চিত হচ্ছে। অতএব সংকটটি বহুমাত্রিক।

৩. জলবায়ু পরিবর্তনের জৈব-ভৌত প্রভাব: ফসলের ভেতরে কী ঘটে?

তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা ও লবণাক্ততা-এই তিনটি স্ট্রেসের/অভিঘাতের উৎস আলাদা হলেও উদ্ভিদের ভেতরে এরা শেষ পর্যন্ত একই ধরনের জৈব-রাসায়নিক ও শারীরবৃত্তীয় অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে প্রথম আঘাত লাগে প্রোটিন ও ঝিল্লির স্থিতিশীলতায়; Rubisco ও অন্যান্য এনজাইমের কার্যকারিতা কমে যায়, থাইলাকয়েড মেমব্রেনের অখণ্ডতা বিঘ্নিত হয় এবং প্রজনন পর্যায়ে পরাগরেণুর জীবনক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে কার্বন স্থিরীকরণ কমে এবং শক্তি উৎপাদন ব্যাহত হয়। খরার ক্ষেত্রে সংকট শুরু হয় পানি ঘাটতি থেকে-স্টোমাটা বন্ধ হয়ে CO₂ প্রবেশ কমে, ফটোসিন্থেটিক ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট চেইনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয় এবং অতিরিক্ত ROS উৎপন্ন হয়, যা লিপিড, প্রোটিন ও DNA কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। লবণাক্ততায় প্রথমে আয়নিক বিষক্রিয়া ও অসমোটিক চাপ সৃষ্টি হয়; Na⁺/K⁺ ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় এনজাইম কার্যক্রম ব্যাহত হয়, কোষে পানির প্রবেশ কমে যায় এবং ক্লোরোপ্লাস্টের রঞ্জক উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিন ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ প্যাটার্ন দেখা যায় যেমন- কার্বন বিপাক হ্রাস, শক্তি সংকট, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বৃদ্ধি এবং শেষ পর্যন্ত প্রজনন ব্যর্থতা ও ফলন হ্রাস। অর্থাৎ, পরিবেশগত স্ট্রেস ভিন্ন হলেও উদ্ভিদের ভেতরে সংকটের কেন্দ্রবিন্দু হলো বিপাকীয় ভারসাম্যে ভেঙে পড়া এবং শক্তি ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতা; এই কারণেই সমন্বিত অভিযোজন কৌশল প্রয়োজন।

৪. জলবায়ু-সহনশীল কৃষি: আধুনিক বৈজ্ঞানিক সমাধান

৪.১ জিনোমিক ব্রিডিং ও ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট জাত

জিনোমিক ব্রিডিং হলো এমন একটি উন্নত পদ্ধতি যেখানে সম্পূর্ণ জিনোম স্তরে মার্কার বিশ্লেষণ, DNA সিকোয়েন্সিং, বায়োইনফরমেটিক্স, পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস মডেল ব্যবহার করে কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য দ্রুত নির্বাচন করা হয়।

প্রচলিত ব্রিডিংয়ে যেখানে ৮-১২ বছর লাগে, সেখানে জিনোমিক পদ্ধতিতে সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

আধুনিক কৃষিবিজ্ঞানে এখন-

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, Sub1 জিন → সাবমার্জেন্স সহনশীল ধান, Saltol QTL → লবণাক্ততা সহনশীলতা, DREB জিন → খরা সহনশীলতা বৃদ্ধি করে। 

বাস্তব সাফল্যের উদাহরণ- বাংলাদেশে বন্যা-প্রবণ অঞ্চলে Sub1-যুক্ত ধানের জাত আবিষ্কার বাস্তব সাফল্যের উদাহরণ। এগুলো কেবল ফসল নয়, এগুলো খাদ্য নিরাপত্তার জেনেটিক সুরক্ষা। এছাড়াও যুক্ত হয়েছে-

মাল্টি-ওমিক্স পদ্ধতি (Multi-Omics Integration)

মাল্টি-ওমিক্স পদ্ধতিতে নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলি একসাথে ব্যবহৃত হচ্ছে-

এই সমন্বিত বিশ্লেষণ স্ট্রেস প্রতিক্রিয়ার সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক বুঝতে সাহায্য করে।

ফেনোমিক্স ও হাই-থ্রুপুট স্ক্রিনিং

ড্রোন, সেন্সর ও উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ক্যানোপি তাপমাত্রা, NDVI সূচক, ক্লোরোফিল এর পরিমাণ এবং এমনকি রুট আর্কিটেকচার পরিমাপ করা সম্ভব হচ্ছে। এসব মাঠ পর্যায়ের ডাটা ফসলের বাস্তব শারীরবৃত্তীয় অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে মূল্যায়ন করতে সহায়তা করে। ফলস্বরূপ, জিনোমিক বিশ্লেষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের মূল্যায়িত ডেটা সমন্বয় করে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক জাত উন্নয়ন এবং স্ট্রেস-সহনশীল ফসল নির্বাচনের পথ সুগম হয়।

৪.২ ফিজিওলজিক্যাল অভিযোজন: স্ট্রেস বায়োলজি

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপ, খরা ও লবণাক্ততা এসব স্ট্রেসের বিরুদ্ধে উদ্ভিদের প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হলো তার শারীরবৃত্তীয় (physiological) ও জৈব-রাসায়নিক অভিযোজন ক্ষমতা।

স্ট্রেস পরিস্থিতিতে উদ্ভিদ নিষ্ক্রিয় থাকে না; বরং কোষীয় স্তর থেকে সম্পূর্ণ উদ্ভিদ-ব্যবস্থায় একাধিক সমন্বিত প্রতিক্রিয়া (integrated stress response) সক্রিয় হয়। এই প্রতিক্রিয়াগুলোর মাধ্যমেই ফসল টিকে থাকার চেষ্টা করে।

ফসল টিকে থাকে যেভাবে-

ফিজিওলজিক্যাল অভিযোজনকে আরও শক্তিশালী করতে বর্তমানে কয়েকটি আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানে গবেষণা হচ্ছে। যেমন-

৪.৩ ডিজিটাল ও প্রিসিশন কৃষি

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এখন কৃষির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। কখন বৃষ্টি হবে, কত হবে, তাপমাত্রা কত উঠবে, এসব পূর্বাভাস আগের চেয়ে অনেক বেশি অনিশ্চিত। 

এই অনিশ্চয়তার যুগে কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত গ্রহণ (data-driven decision making)। এখানেই ডিজিটাল ও প্রিসিশন কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম।

প্রিসিশন কৃষি মূলত একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যেখানে,

সঠিক সময় + সঠিক জায়গা + সঠিক মাত্রায় পানি, সার ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করা হয়।

আবহাওয়া অনিশ্চয়তার এই যুগে-

৪.৪ ফসল বৈচিত্র্য ও সিস্টেম রেজিলিয়েন্স

জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অনিশ্চয়তা (uncertainty)। কখন খরা হবে, কখন বন্যা হবে, কখন লবণাক্ততা বাড়বে এই অনিশ্চয়তা একক ফসলভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থাকে অত্যন্ত ভঙ্গুর করে তোলে। অন্যদিকে সিস্টেম রেজিলিয়েন্স হলো কোনো কৃষি ব্যবস্থা কত দ্রুত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পেরে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।

বহুমুখী চাষ নিম্নোক্তভাবে সিস্টেম রেজিলিয়েন্স বৃদ্ধি করে-

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কতিপয় উদাহরণ-

৪.৫ মাটি-কার্বন ও ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কৃষি খাত একদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণায়নে অবদান রাখে, অন্যদিকে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কার্বন সংরক্ষণ করে জলবায়ু প্রশমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞানী Hudson এর মতে গড় হিসেবে মাটিতে প্রতি ১% জৈবপদার্থ বৃদ্ধিতে ২০,০০০-২৫,০০০ গ্যালন (≈ ৭৫,০০০-৯৫,০০০ লিটার) অতিরিক্ত পানি প্রতি একর ধরে রাখতে পারে। উল্লেখ্য এ ধারণক্ষমতা মাটির ধরন (sand vs clay) অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

মাটির জৈবকার্বন বৃদ্ধি-

৪.৬ কার্বন-ভিত্তিক টেকসই কৃষি পদ্ধতি 

৫. সামাজিক ও নীতিগত অভিযোজন

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই কেবল গবেষণাগার বা মাঠপর্যায়ের প্রযুক্তির বিষয় নয়। এটি একই সঙ্গে সামাজিক সংগঠন, নীতি সহায়তা, বাজার কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিষয়। বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন যদি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে না পারে, অথবা বাজার ও নীতিগত কাঠামো যদি তা সমর্থন না করে তাহলে অভিযোজন কার্যকর হবে না। বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশে অভিযোজনের সাফল্য নির্ভর করে জ্ঞান উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, বাজার সংযোগ এবং নীতিগত সহায়তার সমন্বয়ের উপর।

৫.১ অঞ্চলভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা

অঞ্চলভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত হাতিয়ার। দেশের সব অঞ্চলের জলবায়ু ও মাটির অবস্থা এক নয়। যেমন-উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, হাওরে বন্যা এবং উত্তরাঞ্চলে খরা-এই ভিন্ন বাস্তবতায় একক জাতীয় কৌশল কার্যকর হয় না। তাই প্রয়োজন অঞ্চল-নির্দিষ্ট ফসল ক্যালেন্ডার, উপযোগী জাত নির্বাচন এবং মৌসুমি ঝুঁকি বিশ্লেষণ। এতে উৎপাদন ঝুঁকি কমে এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

৫.২ স্থানীয় বীজ ব্যাংক: জিনগত নিরাপত্তা বলয়

৫.৩ সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা

খাদ্য মজুদ ও কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখে। অনেক সময় খাদ্য সংকট উৎপাদন ঘাটতির চেয়ে সরবরাহ ব্যাঘাতে তীব্র হয়। এজন্য অঞ্চলভিত্তিক গুদাম, কোল্ড চেইন এবং দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা খাদ্যের প্রাপ্যতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। এতে বাজার অস্থিরতাও কমে।

৫.৪ আগাম সতর্কীকরণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা

আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা অভিযোজনকে কার্যকর করে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা ও রোগ-বালাই সম্পর্কে আগাম তথ্য পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে কৃষক বপনের সময় পরিবর্তন বা আগাম সংগ্রহের মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমে।

৫.৫ কৃষক সক্ষমতা ও জ্ঞানভিত্তিক কৃষি

৫.৬ খাদ্য নিরাপত্তা: সমন্বিত কাঠামো

খাদ্য নিরাপত্তা একটি বহুমাত্রিক সমীকরণ। এটি জৈবিক, অর্থনৈতিক ও নীতিগত স্তম্ভের সমন্বয়ে গঠিত। এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

৬. বাংলাদেশের সামনে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের বাস্তবতায় জলবায়ু অভিযোজন কৌশল অঞ্চলভেদে অবশ্যই ভিন্ন হবে। উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় জিনগতভাবে লবণ-সহনশীল জাত ও ধান-চিংড়ি সমন্বিত মডেল কার্যকর হতে পারে; উত্তরাঞ্চলের খরা-প্রবণ এলাকায় গভীর শিকড়বিশিষ্ট জাত, পানি-দক্ষ সেচ (যেমন AWD) ও মাটি-কার্বন বৃদ্ধিমুখী ব্যবস্থাপনা অধিক প্রাসঙ্গিক; আর হাওর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি সাবমার্জেন্স-সহনশীল জাত ও কার্যকর আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশে এখনো জিনোমিক উন্নয়ন, ডিজিটাল কৃষি তথ্যব্যবস্থা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি এবং সামাজিক-নীতিগত সহায়তাকে একীভূত করে একটি সমন্বিত জাতীয় অভিযোজন কাঠামো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে গবেষণা থেকে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মধ্যে একটি ব্যবধান রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বীজ উৎপাদন সংস্থা, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত ও তথ্যনির্ভর উদ্যোগ অপরিহার্য। সমন্বিত পরিকল্পনা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও নীতিগত সহায়তার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ একটি স্থিতিশীল ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে পারে।

উপসংহার

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে হলে কৃষিকে একক সমাধানের উপর নির্ভর করলে চলবে না। জিনগত উন্নয়ন, শারীরবৃত্তীয় সহনশীলতা, ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা, ফসল বৈচিত্র্য, মাটি-কার্বন সংরক্ষণ এবং নীতিগত সমন্বয়-এই সবকিছুর সমন্বিত প্রয়োগই টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি মানে কেবল বেশি উৎপাদন নয়; বরং স্থিতিশীল, অভিযোজিত ও পরিবেশসম্মত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

লেখক:
ড. রিপন সিকদার, ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (বীজ), পার্টনার প্রকল্প, বিএডিসি, ঢাকা
Email: sidkerripon@gmail.com


এই লেখাটি মূলত লেখক কৃতৃক Biggani.org-এ প্রকাশিত। আপনি https://biggani.org-তেও পড়তে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *